প্রকৃতি ও প্রত্যয় মনে রাখার কৌশল

প্রত্যয় নির্নয়ের ১০টি স্পেশাল সূত্র

A large part of the words used in the Bengali language is certified words. These words are formed as a result of the combination of Prakriti with Pratyaya. To gain a detailed knowledge of these newly formed words, one must have a clear idea of their Prakriti and Pratyaya. An easy technique to remember Prakriti and Pratyaya.

In many competitive exams, like BCS preparation, Primary Assistant Teacher Recruitment Examination, and numerous varsity examinations, questions from Prakriti and Pratyaya constantly appear. To obtain a good understanding of this, read the post carefully.

✔️প্রকৃতি ও প্রত্যয়: বাংলা ব্যাকরণ এ প্রকৃতি ও প্রত্যয় খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। ব্যাংক জব, বিসিএস পরীক্ষা সহ বিভিন্ন সরকারি চাকরিতে প্রকৃতি এবং প্রত্যয় থেকে একটি প্রশ্ন থাকে। আবার অনেকেই প্রকৃতি, প্রত্যয় ভালো পারে না। অনেকেই প্রশ্ন করেন প্রকৃতি, প্রত্যয় শেখার সহজ উপায় কি। তাই আজ আমরা প্রকৃতি-প্রত্যয় নির্ণয় করার জন্য কিছু শর্ট টেকনিক বা সূত্র আলোচনা করব। অর্থাৎ প্রকৃতি ও প্রত্যয় মনে রাখার কৌশল সম্পর্কে জানব। যার মাধ্যমে খুব সহজে আপনারা প্রকৃতি, প্রত্যয় নির্ণয় করতে পারবেন।

শর্ট টেকনিক বা সূত্র জানার আগে আমাদের প্রকৃতি ও প্রত্যয় সম্পর্কে সঠিক ধারণা রাখা প্রয়োজন। তাই প্রথমে আমরা প্রকৃতি এবং প্রত্যয় সম্পর্কে জানব। চলুন জেনে আসি, প্রকৃতি কাকে বলে ও প্রত্যয় কাকে বলে?

👉🏽 প্রকৃতি: প্রকৃতি হল শব্দের ক্ষুদ্রতম একক। অর্থাৎ শব্দের মূলকেই প্রকৃতি বলে। সুতরাং নামবাচক শব্দ বা ক্রিয়াবাচক শব্দের মূলকে প্রকৃতি বলে।

👉🏽 প্রত্যয়: প্রকৃতির পরে যে বর্ণ বা বর্ণসমষ্টি যোগে নতুন শব্দ গঠিত হয় সেই বর্ণ বা বর্ণ সমষ্টিকে প্রত্যয় বলে।

     যেমন- শীত + ল = শীতল, চল্+ অন্ত = চলন্ত।

     এখানে শীত ও চল্ দুটি প্রকৃতি এবং ল ও অন্ত দুটি  প্রত্যয় আর শীতল ও চলন্ত দুটি প্রত্যয়ান্ত শব্দ।

👉🏽 শ্রেণিবিভাগ:

     প্রকৃতি দুই প্রকার। যথা- (১) নাম প্রকৃতি ও (২) ক্রিয়া প্রকৃতি।

     নাম প্রকৃতি:- নামবাচক শব্দের মূলকে নাম প্রকৃতি।

     ক্রিয়া প্রকৃতি:- ক্রিয়াবাচক শব্দের মূলকে ক্রিয়া প্রকৃতি বলে।

👉🏽 প্রত্যয়ও দুই প্রকার, যথা

✔️ তদ্ধিত প্রত্যয়: নাম প্রকৃতির পরে যে প্রত্যয় যুক্ত হয় তাকে তদ্ধিত প্রত্যয় বলে। প্রত্যয় চিনতে হয় প্রকৃতি দেখে। প্রকৃতি যদি নাম প্রকৃতি হয় তবে প্রত্যয়টি সাধারণত তদ্ধিত প্রত্যয় হবে। যেমন- উপরে ‘শীতল’ শব্দের প্রকৃতি ‘শীত’ একটি নামবাচক শব্দ তাই ‘ল’ তদ্ধিত প্রত্যয়।

✔️ কৃৎ প্রত্যয়: ক্রিয়া প্রকৃতির পরে যে প্রত্যয় যুক্ত হয় তাকে কৃৎ প্রত্যয় বলে। যেমন- উপরের ‘চলন্ত’ শব্দে ‘অন্ত’ একটি কৃৎ প্রত্যয়। কারণ ‘চল্’ ক্রিয়া প্রকৃতি।

👉🏽 উপধা : নাম প্রকৃতি বা ক্রিয়া প্রকৃতির অন্ত্য ধ্বনির আগের ধ্বনিকে উপধা বলে। যেমন- পঠ্ = প+অ+ ঠ্।     

👉🏽 ইৎ : প্রত্যয়ান্ত শব্দে প্রত্যয়ের যে অংশ লোপ পায় তাকে ইৎ বলে। যেমন- সাহিত্য + ষ্ণিক = সাহিত্যিক। এখানে ‘ষ্ণ’ একটি ইৎ।

👉🏽 অপশ্রুতি : প্রত্যয় যুক্ত হলে ধাতু বা শব্দের মধ্যে কোনো কোনো ক্ষেত্রে স্বরগত অল্প-বিস্তর পরিবর্তন ঘটে। এই পরিবর্তনকে অপশ্রুতি বলে। অপশ্রুতি তিনভাবে প্রকাশ পায়। যথা- গুণ, বৃদ্ধি, সম্প্রসারণ।

👉🏽 সম্প্রসারণ : এই প্রক্রিয়ায় ব > উ-তে পরিণত হয়।

     যেমন- √বচ্ +ক্ত = উক্ত। য > ই-তে পরিণত হয়।

     যেমন- যজ্ + তি = ইষ্টি।

     র > ঋ-তে পরিণ হয়।

     যেমন- গৃহ্ + ত = গৃহীত।

👉🏽 গুণ বৃদ্ধি : কোনো কোনো ক্ষেত্রে (কৃৎ) প্রত্যয় যোগ করলে (ক্রিয়া) প্রকৃতির আদিস্বর পরিবর্তিত হয় তাকে গুণ ও বৃদ্ধি বলে।

👉🏽 গুণ:

কী পরিবর্তন হবেপরিবর্তিত হয়ে কী হবেউদাহরণ
ই, ঈ√চিন্ + আ = চেনা (ই স্থলে এ হলো); √নী + আ = নেওয়া (ঈ স্থলে এ)
উ, ঊ√ধু + আ = ধোয়া (উ স্থলে ও)
অর্‌কৃ + তা = কর্তা (ঋ স্থলে অর্‌)

👉🏽 বৃদ্ধি:

'; } else { echo "Sorry! You are Blocked from seeing the Ads"; } ?>
কী পরিবর্তন হবেপরিবর্তিত হয়ে কী হবেউদাহরণ
পচ্ + অ (ণ ক) = পাচক (পচ-এর অস্থলে ‘আ’)
ই ও ঈশিশু + (অ) ষ্ণ = শৈশব (ই স্থলে ঐ)
উ ও ঊযুব + অন = যৌবন (উ স্থলে ঔ)
আর্‌কৃ + ঘ্যণ = কার্য (ঋ স্থলে আর্‌)

👉🏽 ক্রিয়া প্রকৃতির আর এক নাম ধাতু আর নাম প্রকৃতির অপর নাম প্রতিপদিক।

প্রকৃতি ও প্রত্যয়

👉🏽 প্রকৃতি ও প্রত্যয় ব্যাকরণের শব্দতত্ত্ব বা রূপতত্ত্বের আলোচ্য বিষয়।

👉🏽 বাংলা কৃৎ প্রত্যয় সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য-

     ✔️ ভাববাচক বিশেষ্য গঠনে ‘আই’ প্রত্যয় যুক্ত হয়। যেমন- চড়্ + আই = চড়াই।

     ✔️ আরী-কর্মে দক্ষ অর্থে- √পূজ্ + আরী = পূজারী। উরি-কর্মে দক্ষ অর্থে- ডুব্ + উরি = ডুবুরি।

     ✔️ করতে অভ্যস্ত অর্থে ‘উক’ প্রত্যয় যুক্ত হয়। যেমন- √মিশ্ + উক = মিশুক, ভাব্ + উক = ভাবুক।

👉🏽 গুরুত্বপূর্ণ কিছু বাংলা কৃৎপ্রত্যয় সাধিত শব্দ:

     √কাঁদ্ + অ = কাঁদ

     √দুল্ + অনা = দোলনা

     √মুড়্ + অক = মোড়ক

     √রাঁধ্ + না = রান্না

     √কাঁদ + না = কান্না।

সংস্কৃত কৃৎ প্রত্যয়

প্রত্যয় নির্ণয় করতে হয় শব্দের দুটি বর্ণে প্রথম বর্ণে আর শেষ বর্ণে। প্রথম বর্ণে সূত্র অনুযায়ী এবং শেষ বর্ণে প্রত্যয় অনুযায়ী।

সংস্কৃত প্রত্যয়ের সূত্র হলো

'; } else { echo "Sorry! You are Blocked from seeing the Ads"; } ?>

০১. অন = অনট্, নয়ন = নে + অন (সন্ধি সূত্রে)

     দর্শন = √দৃশ্ + অনট্ = √নী + অনট্,

     ভোজন = √ভুজ + অনট্, স্থান = √স্থা + অনট্।

     শ্রবণ = শ্র + অন[এখানে ব = ও + অ] = √শ্রু + অনট্।

     ব্যতিক্রম:

     নন্দন = নন্দি + অন।

০২. তব্য / অনীয় থাকলে কোনো পরিবর্তন হবে না যেমন

     স্মর্তব্য = √স্মৃ + তব্য, দাতব্য = √দা + তব্য, কর্তব্য =√কৃ + তব্য, শ্রবণীয় = √শ্রু + অনীয়, দর্শনীয় = √দৃশ্ + অনীয়।

০৩. তা / ধা = তৃচ্

     নেতা =√নী + তৃচ্, যোদ্ধা = √যুধ্ + তৃচ্ , মাতা = √মা + তৃচ্, অভিনেতা = অভি + √নী + তৃচ্ , ক্রেতা = √ক্রী + তৃচ্

০৪. মান = শানচ্

     বর্তমান = √বৃৎ + শানচ্ , দীপ্যমান = √দীপ্ + শানচ্, বর্ধমান = √বৃধ্ + শানচ্

০৫. অয় = অল্ / অচ্ (প্রথম বর্ণে / কার যুক্ত হয়)

     জয় = √জি + অল্, ক্ষয় = √ক্ষি + অল্ , ভয় = √ভী + অল্, অভিনয় = অভি + √নি + অল্, বিনয় = বি + √নি + অল্

০৬. ইত / = ক্ত এবং তি = ক্তি

     জ্ঞাত = √জ্ঞা + ক্ত, উক্তি = √বচ্ + ক্তি, খ্যাত = √খ্যা + ক্ত, শান্তি = √শম্ + ক্তি, লিখিত = √লিখ্ + ক্ত, গীতি = √গৈ + ক্তি

     সিক্ত + √সিচ্ + ক্ত (ক = চ), মুক্তি =√মুচ্ + ক্তি, উক্ত = √মুচ্ + ক্ত, উপ্ত = √বপ্ + ক্ত

০৭. অক = ণক্

     নায়ক = √নী + ণক, লেখক = √লিখ্ + ণক,       কারক = √কৃ + ণক, পূজক = √পূঁজি + ণক, গায়ক = √গৈ + ণক,

     পাচক = √পচ্ + ণক

👉🏽 গুরুত্বপূর্ণ আরো কিছু কৃৎপ্রত্যয় নিষ্পন্ন শব্দ

     ভাস্কর = √ভাস্ + বর, হিংস্র = √হিন্-ম্ + র, ঈশ্বর = √ঈশ্ + বর, জাগরুক = √জাগৃ + উক,   নশ্বর = √নশ্ + বর,

     ত্যাগ = √ত্যাজ্ + ঘঞ, শোক = √শুচ্ + ঘঞ, পাক = √পচ্ + ঘঞ।

👉🏽 নিপাতনে সিদ্ধ কৃৎ প্রত্যয় : ছন্দ : গীতিকার বুদ্ধি     শক্তি দিয়ে সিদ্ধি লাভ করল

     গীতি =  √গৈ + ক্তি, বুদ্ধি = √বুধ্ + ক্তি, শক্তি = √শক্+ক্তি, সিদ্ধি = √সিধ্ + ক্তি

তদ্ধিত প্রত্যয়

বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয় :

👉🏽 বিভক্তিহীন নামশব্দকে প্রাতিপদিক বলে।

👉🏽 মনে রাখতেই হবে-

     অবজ্ঞার্থে ‘আ’ প্রত্যয়- চোর + আ = চোরা, কেষ্ট + আ= কেষ্টা

     বৃহদার্থে ‘আ’ প্রত্যয়- ডিঙি + আ = ডিঙা

     সদৃশ অর্থে ‘আ’প্রত্যয়- হাত + আ = হাতা

     ভাববাচক বিশেষ্য গঠনে ‘আই’ প্রত্যয়- বড় + আই = বড়াই

     আদর অর্থে ‘আই’ প্রত্যয়- নিম + আই = নিমাই

     জাত অর্থে ‘আই’ প্রত্যয়- ঢাকা + আই = ঢাকাই।

👉🏽আমিপ্রত্যয়:

     ভাবার্থে- ইতর + আমি = ইতরামি, চোর + আমি = চোরামি।

👉🏽 / প্রত্যয়:

     ভাব অর্থে- উমেদার + ই = উমেদারি

     বৃত্তি / ব্যবসায়- মোক্তার + ঈ = মোক্তারী

     জাত অর্থে- রেশম + ঈ = রেশমী।

     সম্বন্ধ অর্থে- সরকার + ঈ = সরকারী।

👉🏽 ইয়া > প্রত্যয়:

     নৈপুণ্য বুঝাতে- খুন + ইয়া = খুনিয়া > খুনে

     না + ইয়া= নাইয়া > নেয়ে।

👉🏽 উয়া > প্রত্যয়:

     মুক্ত অর্থে- টাক + উয়া = টাকুয়া > টেকো

     উপজীবিকা অর্থে- মাছ + উয়া = মাছুয়া > মেছো

👉🏽 উড়– প্রত্যয়: অর্থহীন ভাবে- লেজ + উড় = লেজুড়।

👉🏽 আর : উপজীবিকা / বৃত্তি অর্থে- চাম + আর = চামার। এভাবে কামার।

👉🏽 আল : আদিবাসী / জাতি অর্থে- চণ্ড + আল = চন্ডাল।

👉🏽 সিয়া : সিয়া > সে > চে- সাদৃশ্য / ক্ষুদ্রার্থে- লাল +       সিয়া = লালসিয়া > লালসে > লালচে।

সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়

তদ্ধিত প্রত্যয় নির্ণয়ের সূত্র:

     মূল —- বৃদ্ধি

     অ —- আ

     ই/ঈ —- ঐ

     উ/ঊ —- ঔ

     ঋ —- আর

[বিঃদ্রঃ– শব্দের প্রথমে বৃদ্ধির কোনোটি থাকলে সেটি মূলে পরিণত হবে। যেমন- আ থাকলে ‘অ’ হবে ‘ঐ’ থাকলে ‘ই/ঈ’ হবে। তবে ই/ঈ থাকলে ‘ঐ’ হবে না।]

০১. /ফলা = ষ্ণ্য : কৌমার্য = কুমার + ষ্ণ্য, গাম্ভীর্য = গম্ভীর + ষ্ণ্য, মাধুর্য = মধুর + ষ্ণ্য,       ধৈর্য = ধীর + ষ্ণ্য, পার্বত্য = পর্বত + ষ্ণ্য।

০২. = ষ্ণি : মাধুরি = মধুর + ষ্ণি, রাবণি = রাবণ + ষ্ণি, দাশরথি = দশরথ + ষ্ণি

০৩. ইক = ষ্ণিক : শারীরিক = শরীর + ষ্ণিক, বার্ষিক = বর্ষ + ষ্ণিক, ভৌগোলিক = ভূগোল + ষ্ণিক, হৈমন্তিক = হেমন্ত + ষ্ণিক

০৪. + ষ্ণ : গৌরব = গুরু + ষ্ণ, মানব = মনু + ষ্ণ, বান্ধব = বন্ধু + ষ্ণ, বৈষ্ণব = বিষ্ণু + ষ্ণ, জৈন = জিন + ষ্ণ, পার্থিব = পৃথিবী + ষ্ণ

     চৈত্র = চিত্র + ষ্ণ।

০৫. বী = বিন : মেধাবী = মেধা + বিন, তপস্বী = তপঃ + বিন, তেজস্বী = তেজঃ + বিন, যশস্বী = যশঃ + বিন।

০৬. ইমা = ইমন : নীলিমা = নীল = ইমন, লালিমা = লাল + ইমন, মহিমা = মহৎ + ইমন, দ্রাঘিমা = দীর্ঘ + ইমন

     ব্যতিক্রম: প্রেম = প্রিয় + ইমন।

০৭. তা / ত্ব পরিবর্তন হবে না : মধুরতা = মধুর + তা, শত্রুতা = শত্রু + তা, মহত্ব = মহৎ + ত্ব, বন্ধুত্ব = বন্ধু + ত্ব

০৮. ঈন = নীন : সর্বজনীন = সর্বজন + নীন, কুলীন = কুল + নীন

০৯. মান = মতুপ্ আর বান = বতুপ্

     গুণবান = গুণ + বতুপ্, শ্রীমান = শ্রী + মতুপ্, বুদ্ধিমান = বুদ্ধি + মতুপ্, রূপবান = রূপ + বতুপ্

👉🏽 নিপাতনে সিদ্ধ: সৌর = সূর্য + ষ্ণ।

👉🏽 অপত্যার্থে– মনু + ষ্ণ = মনুষ্য।

বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয়

হিন্দি– আলা আন আনি পনা সে

ফারসি– বাজি কর (গর) দার বন্দি করে সই কর।

👉🏽 কলমবাজ, গলাবাজি, ধোকাবাজ-প্রভৃতি শব্দে দক্ষ অর্থে বাজ-প্রত্যয়টি যুক্ত হয়েছে।

👉🏽 নামসই, টিপসই-এখানে ‘সই’ প্রত্যয় নয়, স্বাক্ষর অর্থে কিন্তু, মানানসই, টেকসই, চলনসই ইত্যাদি প্রত্যয় যুক্ত শব্দ।

প্রত্যয় নির্ণয়ের ১০টি স্পেশাল সূত্র:

☑️ স্পেশাল সূত্র নং ➔ ১ ♛

শব্দের শেষে ‘ব’প্রত্যয় থাকলে –

[মূল শব্দ + ষ্ণ]হবে।

যেমনঃ

মানব=মনু+ষ্ণ—–তদ্ধিত প্রত্যয়

দানব=দনু+ষ্ণ—–তদ্ধিত প্রত্যয়

লাঘব=লঘু+ষ্ণ—–তদ্ধিত প্রত্যয়

শৈশব =শিশু +ষ্ণ—–তদ্ধিত প্রত্যয়

ইত্যাদি।

☑️ স্পেশাল সূত্র নং ➔ ২♛

শব্দের শেষে ‘মা’ এবং ‘ম’ প্রত্যয় থাকলে –

[মূল শব্দ + ইমন ]হবে।

যেমনঃ

নীলিমা=নীল+ইমন—-তদ্ধিত প্রত্যয় পূর্ণিমা =পূর্ণ +ইমন—-তদ্ধিত প্রত্যয়

দ্রাঘিমা =দীর্ঘ +ইমন—-তদ্ধিত প্রত্যয়

মহিমা =মহৎ +ইমন—–তদ্ধিত প্রত্যয়

ইত্যাদি।

☑️ স্পেশাল সূত্র নং ➔ ৩♛

শব্দের শেষে ‘ইক’ প্রত্যয় থাকলে –

[মূল শব্দ + ষ্ণিক ]হবে।

যেমনঃ

সাহিত্যিক=সাহিত্য+ষ্ণিক —-তদ্ধিত প্রত্যয়

সামাজিক =সমাজ +ষ্ণিক—-তদ্ধিত প্রত্যয়

হৈমন্তিক =হেমন্ত +ষ্ণিক—-তদ্ধিত প্রত্যয়

ধার্মিক =ধর্ম +ষ্ণিক—–তদ্ধিত প্রত্যয়

ইত্যাদি।

☑️ স্পেশাল সূত্র নং ➔ ৪♛

শব্দের শেষে ‘মান’প্রত্যয় থাকলে –

[মূল শব্দ +মতুপ/শানচ]হবে।

যেমনঃ

কীর্তিমান =কীর্তি+মতুপ/শানচ—-তদ্ধিত প্রত্যয়

বুদ্ধিমান =বুদ্ধি +মতুপ/শানচ—-তদ্ধিত প্রত্যয়

শ্রীমান =শ্রী+মতুপ/শানচ—-তদ্ধিত প্রত্যয়

বর্তমান=√বৃত+মতুপ/শানচ—–কৃৎপ্রত্যয়

বর্ধমান =√বৃধ+মতুপ/শানচ—-কৃৎপ্রত্যয়

ইত্যাদি।

[বিঃদ্রঃ এখানে ‘মতুপ’ ‘শানচ’ এই ২টাই দেওয়া হয়েছে।আপনারা লেখার সময় যেকোন ২টার মধ্যে যেকোন ১টি লিখবেন]

☑️ স্পেশাল সূত্র নং ➔ ৫♛

শব্দের শেষে ‘বান’ প্রত্যয় থাকলে –

[মূল শব্দ + বতুপ]হবে।

যেমনঃ

দয়াবান=দয়া+বতুপ—-তদ্ধিত প্রত্যয়

পূণ্যবান=পূণ্য +বতুপ—-তদ্ধিত প্রত্যয়

মেহেরবান =মেহের +বতুপ—-তদ্ধিত প্রত্যয়

মূল্যবান =মূল্য +বতুপ—–তদ্ধিত প্রত্যয়।

☑️ সূত্র নং ➔ ৬♛

শব্দের শেষে ‘তা’ প্রত্যয় থাকলে –

[মূল শব্দ + তৃচ ]হবে।

যেমনঃ

দাতা=√দা+তৃচ—-কৃৎপ্রত্যয়

মাতা =√মা+তৃচ—-কৃৎপ্রত্যয়

বিধাতা =√বি +ধা+তৃচ—-কৃৎপ্রত্যয়

বহতা =বহ +তৃচ—–তদ্ধিত প্রত্যয়

ইত্যাদি।

☑️ স্পেশাল সূত্র নং ➔ ৭♛

শব্দের শেষে ‘ল’ প্রত্যয় থাকলে –

[মূল শব্দ + লচ ]হবে।

যেমনঃ

শীতল=শীত+লচ—-তদ্ধিতপ্রত্যয়

শ্যামল=শ্যান+লচ—-তদ্ধিতপ্রত্যয়

ইত্যাদি।

☑️ স্পেশাল সূত্র নং ➔ ৮♛

শব্দের শেষে ‘বী’ প্রত্যয় থাকলে –

[মূল শব্দ + বিন ]হবে।

যেমনঃ

মেধাবী=মেধা+বিন—-তদ্ধিতপ্রত্যয়

মায়াবী =মায়া+বিন—-তদ্ধিতপ্রত্যয়

ইত্যাদি।

☑️ স্পেশাল সূত্র নং ➔ ৯♛

শব্দের শেষে ‘অক’ প্রত্যয় থাকলে –

[মূল শব্দ + নক/অক ]হবে।

যেমনঃ

নায়ক =√নী+নক/অক—-কৃৎপ্রত্যয়

গায়ক=√গৈ+নক/অক—–কৃৎপ্রত্যয়

ইত্যাদি।

[বিঃদ্রঃ এখানে মূল শব্দের সাথে ‘নক’ এবং ‘অক’ এই দুইটাই দেওয়া হয়েছে। আপনারা লিখার সময় যেকোন একটি লিখবেন]

☑️ স্পেশাল সূত্র নং ➔ ১০♛

শব্দের শেষে ‘ই’ প্রত্যয় থাকলে –

[মূল শব্দ + ষ্ণি ]হবে।

যেমনঃ

রাবনি=রাবন+ষ্ণি

প্রকৃতি ও প্রত্যয় – এর বাইরে আর নাই

বিগত বছরে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে আসা  কিছু নমুনা প্রশ্ন

০১।  বাংলা কৃদন্ত শব্দ কোনটি?         [ঢাবি-ক ১৭-১৮]

        (ক) বহতা

        (খ) মৌন

        ✔️ (গ) জ্যান্ত

        (ঘ) দাপট

০২।  বাংলা ভাষায় ‘ত্ব’ যে ধরনের ব্যাকরণিক উপাদান-    [ঢাবি-খ ১৭-১৮]

        (ক) উপসর্গ

        (খ) ফলা

        ✔️ (গ) প্রত্যয়

        (ঘ) বিশেষণ

০৩।  ‘বাক্য’ এর প্রকৃতি-প্রত্যয় কোনটি?          [ঢাবি-গ ১৭-১৮]

        (ক)  √বাক+ত

        ✔️ (খ) √বচ্‌+য

        (গ) √বাক্‌+য

        (ঘ) √বাচ্‌+য

০৪।  কোনটি প্রত্যয়ান্ত শব্দ?             [ঢাবি-ঘ ১৭-১৮]

        (ক) লামা

        (খ) জামা

        (গ) গামা

        ✔️ (ঘ) হেমা

০৫।  প্রত্যয়ঘটিত অশুদ্ধ শব্দের দৃষ্টান্ত হলো-      [ঢাবি-খ ১৭-১৮]

        (ক) পুরস্কার

        (খ) অর্ধরাত্রি

        ✔️ (গ) প্রতিদ্বন্দ্বীতা

        (ঘ) ষ্টেডিয়াম

০৬।  ‘ইক’ প্রত্যয় ব্যবহৃত হয়-         [ঢাবি-ক ১৫-১৬]

        (ক) অন্য পদকে বিশেষ্য করার জন্য

        ✔️ (খ) বিশেষ্যকে বিশেষণ করার জন্য    

        (গ) বিশেষণকে ক্রিয়াবিশেষণ করার জন্য

        (ঘ) বিশেষণকে বিশেষ্য করার জন্য

০৭।  ‘চলনসই’ শব্দের ‘সই’-           [ঢাবি-ক ১৬-১৭]

        ✔️ (ক) বাংলা কৃৎ প্রত্যয়

        (খ) বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়

        (গ) সংস্কৃত কৃৎ প্রত্যয়

        (ঘ) বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয়

০৮।  ‘ঐকতান’ শব্দের প্রকৃতি ও প্রত্যয়-          [ঢাবি-গ ১৬-১৭]

        ✔️ (ক) একতান+অ

        (খ) ঐক্য+তান

        (গ) একতা+ইন

        (ঘ) এক+তান

০৯।  দুঃখ+ইত= দুঃখিত, কোন প্রত্যয়যোগে গঠিত শব্দ?              [ঢাবি-খ ১৬-১৭]

        (ক) বাংলা কৃৎ প্রত্যয়

        (খ) সংস্কৃত কৃৎ প্রত্যয়

        (গ) বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়

        ✔️ (ঘ) সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়

১০।  ‘স্মরণ’ শব্দটির প্রকৃতি-প্রত্যয় কোনটি?     [জবি-A ১৭-১৮]

        (ক) √স্ব+অরন

        ✔️ (খ) √স্মৃ+অন

        (গ) √স্মর+ণ

        (ঘ) √স্মৃ+রণ

১১।   ‘দীক্ষা’ শব্দের প্রকৃতি ও প্রত্যয় কোনটি?   [জবি-ঘ ১৭-১৮]

        (ক) দীখ্‌+অ

        ✔️ (খ) দীক্ষ্‌+অ

        (গ) দিক্ষ্‌+আ

        (ঘ) দী+ক্ষা

১২।  ‘সৌভাগ্য’ শব্দটির প্রকৃতি-প্রত্যয় কোনটি? [জবি-ক ১৫-১৬]

        ✔️ (ক) সুভগ+ষ্ণ্য

        (খ) সৌভগ+ষ্ণ

        (গ) সৌভগ+ষ্ণ্য

        (ঘ) সুভগ+ষ্ণ

১৩।  ‘ফুলদানি’ শব্দের ‘দানি’-র ভাষিক নাম কি?           [জবি-খ ১৫-১৬]

        ✔️ (ক) শব্দপ্রত্যয়

        (খ) শব্দ

        (গ) শব্দধাতু

        (ঘ) শব্দবিভক্তি

১৪।  ‘দুগ্ধ’ শব্দের প্রকৃতি-প্রত্যয় কোনটি?        [জবি-খ ১৬-১৭]

        (ক) √দুক্‌+হ

        (খ) √দুক্‌+ধ

        ✔️ (গ) √দুহ্‌+ক্ত

        (ঘ) √দুহ্‌+ধ

১৫।  কোনটি প্রত্যয়নিষ্পন্ন শব্দ?        [জবি-চ ১৬-১৭]

        (ক) অনাদর

        (খ) অরুণোদয়

        ✔️ (গ) বিবিয়ানা

        (ঘ) শিক্ষকগণ

১৬।  ‘কাব্য’ এর প্রকৃতি ও প্রত্যয় কোনটি?       [জাবি-C ১৭-১৮]

        (ক) কবি+অ

        ✔️ (খ) কবি+য

        (গ) কবিতা+অ

        (ঘ) কবিতা+য

১৭।   ‘বান্ধব’ এর প্রকৃতি ও প্রত্যয় কোনটি?      [জাবি-C ১৭-১৮]

        (ক) বন্ধু+অব

        (খ) বন্ধু+ইব

        (গ) বান্ধ+অব

        ✔️ (ঘ) বন্ধু+ষ্ণ

১৮।  ‘শ্রেষ্ঠ’ এর প্রকৃতি ও প্রত্যয় কোনটি?        [জাবি-C ১৭-১৮]

        ✔️ (ক) শ্র+ইষ্ট

        (খ) শ্রেয়+ঈ

        (গ) শ্রেয়স+ইষ্ট

        (ঘ) শ্রেয়স+ঈষ্ঠ

১৯।  ‘শ্রদ্ধাবান’ এর প্রকৃতি ও প্রত্যয় কোনটি?   [জাবি-C ১৭-১৮]

        (ক) শ্রদ্ধা+বান

        ✔️ (খ) শ্রদ্ধা+বতুপ

        (গ) শ্রদ্ধা+বাণ

        (ঘ) শ্রদ্ধ+বান

২০।  ‘উচিত’ শব্দের প্রকৃতি ও প্রত্যয় কোনটি?  [জাবি-B ১৭-১৮]

        ✔️ (ক) √বচ+ইত

        (খ) √উচ+ত

        (গ) উঢ়+ইত

        (ঘ) উচ্‌+চিত

২১।  ‘রূঢ়ি’ এর প্রকৃতি-প্রত্যয় কোনটি?  [DU-A 18-19 ]

        ✔️ (ক) √রুহ্‌+তি

        (খ)) √রহু+ তি

        (গ)  √রুৎ+তি

        ঘ) √রুহ্‌+ধী

২২। ‘বৈশিষ্ট্য’ শব্দটি গঠিত হয়েছে-     [DU-A 19-20 ]

        (ক) সন্ধি যোগে

        (খ) সমাস যোগে

        ✔️ (গ) প্রত্যয় যোগে

        (ঘ)  উপসর্গযোগে

২৩।  ‘মানানসই’ শব্দের ‘সই’ কোন ধরনের প্রত্যয়?           [DU-D 19-20 ]

        (ক) বাংলাকৃৎপ্রত্যয়

        (খ)  বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়

        (গ)  সংস্কৃতি তদ্ধিত প্রত্যয়

        ✔️ (ঘ) বিদেশী প্রত্যয়

প্রকৃতি ও প্রত্যয় মনে রাখার সহজ কৌশল মনে রাখতে পারলেই খুব সহজে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় ভালো করা সম্ভব। তাই সাহিত্য শব্দের প্রকৃতি প্রত্যয় জানা খুব জরুরি কারন বিভিন্ন পরীক্ষায় এসে থাকে। প্রকৃতি ও প্রত্যয় মনে রাখার কৌশল গুলো তাই বারবার পড়ে মুখস্তু করে ফেলুন, প্রকৃতি ও প্রত্যয় pdf পেতে PDF Download ক্লিক করুন। প্রত্যয়ের নামসহ প্রকৃতি ও প্রত্যয় নির্ণয় জানা খুবই জরুরি। তাই প্রত্যয়ের নামসহ প্রকৃতি ও প্রত্যয় নির্ণয় জানা দরকার।

We present to you some formulas to determine the Prakriti and Pratyaya. But only then will you be able to truly determine the Prakriti and Pratyaya, when you practice more and more. So read and write more and more.